জানুয়ারি মাস পড়তে না পড়তেই শীতটা জাঁকিয়ে পড়েছে আর এই শীতের মরশুমে শীতকে আরো ভালো করে উপভোগ করতে আমরা বেরিয়ে পড়ি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সময় বা অর্থের অভাবে মনের ইচ্ছা মনেই থেকে যায় কখনো কখনো। অথচ শীত পড়তেই আমাদের মন চায় একটা অচেনা জায়গা অথবা নেহাত চেনা জায়গাতেই কিছু সময় নিজের মানুষদের সাথে কাটিয়ে আসতে।
অরণ্য সুন্দরী ভাল্কীমাচান: এটি পশ্চিম বর্ধমানের আউসগ্রামে অবস্থিত একটি সুন্দর ও ঐতিহাসিক জায়গা।মানকর স্টেশন থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের এই জায়গাটি জঙ্গল যারা ভালবাসেন তাদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা।
কি ভাবে যাবেন: বর্ধমান থেকে আসানসোলগামী যেকোন ট্রেনে চেপে পানাগড় অথবা বোলপুর-তারাপীঠগামী যেকোন ট্রেন চেপে গুসকরা স্টেশন নামতে হবে, এরপর সেখান থেকে পেয়ে যাবেন ভাড়ার গাড়ি অথবা টোটো। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি অথবা বাইকে করেও আসতে পারেন এখানে।

খরচ এবং অন্যান্য: স্টেশন থেকে ভাল্কীমাচান আসতে টোটো তে লাগবে ৩০০ টাকা মতো ভাড়ার গাড়ি নেবে ৪০০ টাকা।
এরপর আপনি যদি পিকনিক করতে চান আপনাকে কথা বলতে হবে অরণ্য সুন্দরী ভাল্কীমাচান রিসোর্টে।
নিঝুম রাতে জঙ্গলের পরিবেশ অনুভব করতে আপনি যদি ভাল্কীমাচানে একটি রাত কাটাতে চান তাহলে আপনাকে থাকতে হবে অবশ্যই অরণ্য সুন্দরী রিসোর্টে। সেক্ষেত্রে রিসোর্ট এর ফোন নাম্বারে আগে থেকে কথা বলে আপনি রুম বুক করতে পারেন ফিফটি পার্সেন্ট এডভান্স দিয়ে। ডবল বেড রুম নন এসি পড়বে ৯৫০ টাকা এবং এসি রুম রেন্ট পড়বে ১২৫০ টাকা। থ্রী বেড হলে নন এসি পড়বে ১১০০ টাকা এবং এসি রুম পড়বে ১৪০০ টাকা। ফোর বেড হলে সেক্ষেত্রে নন এসি ১৪০০ এবং এসি ১৭০০ টাকা। এবং ফাইভ বেড নন এসি ১৫০০ টাকা, এসি ১৮০০ টাকা। তাছাড়াও ওনাদের ১৩ জনের একটি ডরমেটরি রুম আছে যেটা আপনি চাইলে বুক করতে পারেন খরচ পড়বে ২৫০০ টাকা।
সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে আপনি রিসোর্ট এর সামনে জায়গা আছে সেখানে পিকনিক করতে পারেন, রয়েছে জলসহ অন্যান্য সুব্যবস্থা। আর যদি আপনি শুধু অরণ্যকে উপভোগ করতে ভাল্কীমাচান গিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনি রিসোর্টের রেস্তোরায় খাওয়াদাওয়া সেরে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনি প্যাকেজ নিলে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, স্নাক্স এবং ডিনার পেয়ে যাবেন রিসোর্ট থেকে যার খরচ পড়বে জনপ্রতি মাত্র ৪০০ টাকা।

কি দেখতে পাবেন: জঙ্গল প্রেমীদের জন্য এই অরণ্য সুন্দরী অপেক্ষা করছে সাল পিয়ালের দল নিয়ে। জঙ্গলের মধ্যেই একটি সুন্দর গেস্ট হাউস আছে যেখানে আপনি চাইলে নিভৃতে কাটিয়ে আসতে পারেন একটি রাত। যদিও সেটি হচ্ছে ওই জঙ্গলে থাকার জন্য একমাত্র ব্যবস্থা। অরণ্য সুন্দরী ভাল্কীমাচান রিসোর্ট (9153420133) রিসর্টের ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে একটি কাঁচা রাস্তা যেটা জঙ্গলের ভেতরে যাচ্ছে। রাস্তার অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বহুকালের ঐতিহাসিক ওয়াচ টাওয়ার। শোনা যায় তৎকালীন দিনে নাকি এই জঙ্গলে অনেক ভাল্লুক ছিল তাই জমিদাররা এই ওয়াচ টাওয়ারে বসে ভাল্লুক স্বীকার করতেন, মাচান কথার অর্থ হল মাচা বা উঁচু জায়গা এবং ভালকী মানে হলো ভাল্লুক তাই সেখান থেকে জায়গাটির নাম হয় ভাল্কীমাচান। যদিও এখন ওয়াচ টাওয়ারটির ভগ্নস্তুপ পড়ে আছে। এছাড়া রয়েছে প্রাচীন একটি সুরঙ্গ যা নাকি শুরু হয়েছে ভাল্কীমাচান থেকে এবং সেটি শেষ হয়েছে বর্ধমান রাজবাড়ীর কাছে। স্বদেশী যুগে এই গোপন পথ বিপ্লবী রাও ব্যবহার করতেন বলে শোনা যায়। বোন বাংলোর ঠিক পাশেই রয়েছে একটি সুসজ্জিত পার্ক এবং একটি গোলাকার জলাশয় যার চারপাশটা অসংখ্য ফুল গাছে সুসজ্জিত, জলাশয়ে রয়েছে বোটিং এর ব্যবস্থা। পার্ক খোলা থাকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। নিজস্ব গাড়ি কিংবা বাইকে এলে আপনি অবশ্যই ঘুরে যেতে পারেন এখান থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে যমুনা দীঘি মৎস্য প্রকল্প থেকে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অধীনে এই যমুনা দীঘিতে রয়েছে ছোট-বড় মোট ৪৫ টি পুকুর। মৎস্য প্রকল্প ছাড়াও এখানে রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা, রয়েছে গ্রাম্য পরিবেশে পিকনিক এবং থাকা খাওয়ার ও রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা। ডাবল বেডরুম সর্বনিম্ন ভাড়া ৭৯৪ টাকা। www.valkimachan.com বা wbtdcl.wbtourismgov.in এই লিংকগুলির মাধ্যমে আপনারা বুকিং গুলি করতে পারবেন।
তাহলে আর দেরি না করে এই উইকএন্ডেই বেরিয়ে পড়ুন অরণ্য সুন্দরীর ডাকে সাড়া দিতে।

ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
মনে রাখবেন “হাজার মাইলের যাত্রা শুরু হয় এক ধাপ দিয়ে”….
ভবঘুরের পক্ষ থেকে সবার জন্য শুভকামনা রইলো।
ধন্যবাদ।

