কোলে সদ্যজাত শিশু সামলে বেড়াতে যাওয়া হয়ে উঠছে না?

কোলে সদ্যজাত শিশু সামলে বেড়াতে যাওয়া হয়ে উঠছে না?

সদ্যজাত  বাচ্চা নিয়ে কীভাবে অনায়াসে ঘুরে আসবেন কয়েক দিনের জন্য জেনে নিন:

নতুন মা হওয়ার পর অনেক গুলো দিন আর বাইরে বেরোনোর সুযোগ পান নি? খুব ইচ্ছে করছে সব কিছু ছেড়ে কদিন বাইরে ঘুরে আসতে কিন্তু এত ছোট বাচ্চা নিয়ে কি ভাবে সেটা সম্ভব?

কয়েকটা ছোট ছোট টিপস মানলেই কিন্তু সাথে বাচ্ছা নিয়ে অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন।

১. সব চেয়ে সমস্যা হয় একদম ছোট বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় তার খাবার নিয়ে। কারণ একদম ছোটো বাচ্চার ব্রেস্টফিড করে পেট ভরে। সে ক্ষেত্রে long distance journey করলে রাস্তা ঘাটে খাওয়ানো সত্যি সমস্যার।

একদম ছোটো বাচ্চা মানে ছয় মাসের নিচের বাচ্ছা নিয়ে travel না করাই ভালো কারণ অনেক সময় বাচ্চার dehidression, high fever এরকম অসুবিধা হতে পারে যেহেতু সে এতটা জার্নি এর জন্য অভ্যস্ত না। তাই ছয়মাসের নিচের বাচ্চাকে নিয়ে travel করার জন্য আপনার বাচ্চার Pediatrician সাথে কথা বলে নেওয়াই ভালো।

এবার আসি ছয়মাসের বড় কিন্তু  যারা এখনো ব্রেস্টফিড করে তেমন বাচ্চাদের কথায়। এই ক্ষেত্রে বাচ্ছা কে ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো formula milk দিতে পারেন। কারণ কাউ মিল্ক নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঝামেলা হয় অনেক। দুধ একটা সময়ের পর নষ্ট হয়ে যায় সে যতই ভালো ভাবে নিয়ে যাওয়া হোক। নষ্ট দুধ বাচ্চার জন্যও ক্ষতিকারক। ফর্মুলা মিল্ক হঠাৎ করে বাচ্চাকে দিতে শুরু করলে বাচ্চার অভ্যাস না থাকার জন্য অনেক সময় শরীর খারাপ করে তাই ঘুরতে যাওয়ার কিছু দিন আগে থেকেই বাচ্চাকে ফর্মুলা মিল্ক দেওয়ার অভ্যাস করান। এছাড়া ট্রেন এ গেলে চেষ্টা করুন অবশ্যই reservation করে যাওয়ার। তাতে আপনি বাচ্চাকে ব্রেস্টফিড করানোর স্পেস পাবেন। বাসের ক্ষেত্রেও sliper বুক করুন সম্ভব হলে।

কিছু ড্রেস এখন পাওয়া যায় বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিড করতে সহায়ক। একটা বা দুটো সেরকম ড্রেস সাথে নিতে পারেন বা সেটা পরেই বাচ্ছা carry করতে পারেন যাতে ব্রেস্টফিড করাতে সমস্যা না হয়।

২. অনেক সময় journey করার ক্ষেত্রে বাচ্চাদের বমির সমস্যা দেখা যায়। ডাক্তারের সাথে কথা বলে বমির অষুধ সাথে রাখতে পারেন। আর নিতে পারেন কিছু প্লাস্টিক। Ac বাস বা ট্রেন এ যেহেতু জানলা খোলা সম্ভব নয় আর ওয়াশরুম অবধি যাওয়ার জন্য বছর অপেক্ষা করতে অসুবিধা হতে পারে তাই কাছে প্লাস্টিক রাখুন।  জোয়ান, মৌরী ও সাথে রাখতে পারেন।

৩. বাচ্ছা যদি বাইরের খাবার খেতে অভ্যস্ত হয় তো হোটেলে খাবার আগে বলে দিন ঝাল মশলা কম দিতে খাবারে। দরকার পড়লে আগে নিজে test করে নিয়ে বাচ্চার টা order করুন। অনেক সময় ঝাল মশলা খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও ঘুরতে গিয়ে সেগুলো এভয়েড করা উচিত বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য। কারণ ঘুরতে গিয়ে আমাদের খাওয়া ঘুমের অনেক অনিয়ম হয়, জল এবং আবহাওয়া পরিবর্তন হয়। এসবের মধ্যে ঝাল মশলা যুক্ত খাবার খেলে বাচ্ছা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া চিপস, চকলেট জাতীয় খাবার ও সেই কয়েক দিনের জন্য কম ব্যবহার করা ভালো।

৪. ব্যাগে চেষ্টা করুন সময় কিছু শুকনো খাবার রাখতে। আমরা অনেক সময় মনে করি সাথে খাবার রাখার কি দরকার! যেখানে টাকা দিলেই শুকনো খাবার আমরা রাস্তায় কিনতে পারবো। কিন্তু অনেক সময় সেটা সম্ভব হয়না। যেমন ধরুন কোনো একটা জায়গায় ট্রেন কোনো কারণ বশত টোহেমে গেলো এবং কাছে দোকান নেই। এই অবস্থায় আপনি হাতের কাছে খাবার নাও পেতে পারেন,  বা পেলেও বাচ্চাকে যে কোম্পানির খাবার আপনি দিতে পছন্দ করেন সেটা সেখানে নাও পেতে পারেন, আর সেই কারণেই কিছু শুকনো খাবার যেমন কেক, বিস্কুট, খুব কম মশলার যে চিড়ে ভাজা পাওয়া যায় এগুলো সাথে রাখার চেষ্টা করুন।

আরো একটা বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, কোনো অবস্থাতেই বাচ্ছাকে বাইরের জল খাওয়াবেন না। চেষ্টা করুন মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করতে।

৫. আপনার বাচ্চার  কিছু অষুধ যেমন, জ্বরের, হজমের, বমির এগুলো সাথে রাখুন যেগুলো বাচ্ছা অসুস্থ থাকলে আপনি ব্যবহার করে থাকেন।

৬. অবশ্যই খেয়াল রাখবেন বছর ঘুম যেনো খুব ভালো ভাবে পূরণ হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বাচ্ছা খিটখিটে হবে, ঘোরার ধকল নিতে পারবে না এমন কি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

৭. ঘোরাঘুরির মাঝে খেয়াল রাখবেন বাচ্ছা যেনো পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করে। সুস্থ থাকার জন্য যেটা ভীষণ প্রয়োজন।

৮. বাচ্ছা যত টুকু ধকল নিতে পারবে তত টুকুই ঘুরুন। তার বেশি হলে বাচ্ছা কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়বে।

৯. বাচ্ছা যদি ব্রেস্টফিড করে তাহলে নিজের খাওয়া দাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিন। কারণ আপনার গ্যাস অম্বল হলে ব্রেস্টফিড করার পর বাচ্ছারও অসুস্থ হবার ঝুঁকি থেকে যায়।

তাহলে আর চিন্তা কিসের? ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল আপনাকে ডাকছে।

ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।

মনে রাখবেন “আপনি যখন ভ্রমণ করেন, আপনি আপনার নিজের সীমানা ছাড়িয়ে যান।”

ভবঘুরের পক্ষ থেকে সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

ধন্যবাদ।

2 Comments

  1. Souvik Basak

    A really useful post, though there are some impracticalities.

Leave a Reply to Shaown Bhattacharyya Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *